ঢাকা , বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ , ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এবছর রসায়নে যৌথভাবে নোবেল পেলেন ফ্রান্সের হেনরি কাগান ও জাপানের কেনসো সোয়াই একনেক সভায় ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন ১৭ অক্টোবরের ছুটি বাতিল, প্রজ্ঞাপন জারি এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি আজ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে ৩০ ব্যাংকের এটিএমসহ ডিজিটাল সেবা চালু দুই কোটি শিশু টিকা পেয়েছে, আরও পাবে ৩৫ লাখ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অনুমোদনের অপেক্ষায় রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র জোড়া অ্যাসিস্টে বিদায়ী ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখলেন মেসি ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১০ জনের মৃত্যু  প্রধান শিক্ষক নিয়োগে ভাইভা নিতে আইনি বাধা নেই এবছর পদার্থে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হ্যালজেন ফ্যামিলি কার্ডে সাড়ে ২৮ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হতে পারে: বিশ্বব্যাংক চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত দামে এলপিজি না মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা ১৫০ বাংলাদেশিকে কাশ্মীর থেকে আটকের দাবি ভারতের ঢাকায় লটারির মাধ্যমে ১৮ সাব-রেজিস্ট্রার বদলি শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিলে দেশের ভিত্তি মজবুত হবে: প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপূজায় মিলছে টানা ৫ দিনের ছুটি ডেঙ্গুতে ৯ জনের প্রাণহানি, হাসপাতালে ১৯০২ শিক্ষকদের মর্যাদা রাষ্ট্রের মর্যাদার সাথে জড়িত: প্রধানমন্ত্রী

এক রাতের ইবাদত ৮৩ বছরের সওয়াব

  • আপলোড সময় : ১৫-০৩-২০২৬ ০৬:৩০:১২ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৫-০৩-২০২৬ ০৬:৩০:১২ অপরাহ্ন
এক রাতের ইবাদত ৮৩ বছরের সওয়াব
রমজানের শেষ দশক মুসলমানের জীবনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সময়। এই দশকের মধ্যেই রয়েছে সেই মহিমান্বিত রাত লাইলাতুল কদর। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে ঘোষণা করেছেন, এই রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। একজন মানুষ যদি এই একটি রাত ইবাদতে কাটাতে পারে, তবে সে যেন প্রায় তিরাশি বছরের ইবাদতের সমপরিমাণ সওয়াব অর্জন করে।


এই কারণেই নবীজি (সা.)শেষ দশকে ইবাদতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। হাদিসে বর্ণিত আছে, শেষ দশক শুরু হলে তিনি নিজের কোমর শক্ত করে বেঁধে নিতেন, রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং পরিবারকেও জাগিয়ে দিতেন। এতে বোঝা যায়, এই সময়টাকে সাধারণ সময়ের মতো দেখার সুযোগ নেই, বরং এটিকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে ইবাদতে সময় কাটানো  মুমিনের কর্তব্য।


 রাসূল  (সা.) এর নির্জনতার আমল 

রাসূলুল্লাহ মানুষের মাঝে দাওয়াত, শিক্ষা ও নেতৃত্ব দিয়েছেন,আবার একই সাথে নির্জনতার মধ্যেও আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। নবুয়তের পূর্বেও তিনি মাঝে মাঝে নির্জনে সময় কাটাতেন এবং আল্লাহর স্মরণে মগ্ন হতেন।নবুয়তের পরও এই ধারা অব্যাহত ছিল। বিশেষ করে রমজানের শেষ দশকে তিনি মসজিদে এতেকাফ করতেন। এতেকাফ মানে শুধু মসজিদে অবস্থান করা না,বরং দুনিয়ার কোলাহল থেকে নিজেকে আলাদা করে আল্লাহর দিকে সম্পূর্ণভাবে মনোযোগ দেওয়া। সাহাবায়ে কেরামও রাসূল( সা.)এর এই আমলকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছিলেন। তারা বুঝেছিলেন, নির্জনতা কখনো অলসতা না বরং এটি আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার এক মহৎ উপায়।হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসূল( সা.)প্রতি বছর রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করতেন। তাঁর ইন্তেকালের আগ পর্যন্ত এই আমল অব্যাহত ছিল। শুধু তিনি নিজেই না, তাঁর সাহাবিরাও এতেকাফে বসতেন এবং এই আমলের ফজিলত মানুষকে বুঝিয়ে দিতেন।


 ডিপ ওয়ার্ক ও ইবাদতের একাগ্রতা 

আধুনিক মনোবিজ্ঞানে একটি ধারণা আছে—গভীর মনোযোগের কাজ। অর্থাৎ মানুষ যখন সব ধরনের বিভ্রান্তি দূরে রেখে একাগ্রচিত্তে কোনো কাজে মনোযোগ দেয়, তখন তার কর্মক্ষমতা ও উপলব্ধি বহুগুণ বেড়ে যায়।ইসলামের দৃষ্টিতে এতেকাফ সেই গভীর মনোযোগের এক চমৎকার উদাহরণ। এখানে মানুষ মোবাইল, বাজার, কাজের ব্যস্ততা কিংবা দুনিয়ার নানা চিন্তা থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখে। তারপর কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া, জিকির ও নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে সম্পূর্ণ মনোযোগ দেয়।যখন মন একাগ্র হয়, তখন ইবাদতের স্বাদও ভিন্ন হয়ে যায়। একটি আয়াত পড়ে মানুষ গভীরভাবে ভাবতে পারে, একটি দোয়া অন্তর থেকে বেরিয়ে আসে। এই অবস্থাই ইবাদতের আসল সৌন্দর্য।


 নির্জনতা ও রবের সান্নিধ্যের মনোবিজ্ঞান 

মানুষের মন সব সময় ব্যস্ততায় ক্লান্ত হয়ে পড়ে। প্রতিদিনের দায়িত্ব, সামাজিক সম্পর্ক এবং নানা দুশ্চিন্তা মনকে ভারী করে তোলে। কিন্তু কিছু সময়ের নির্জনতা মানুষের অন্তরকে শান্ত করে।মনোবিজ্ঞানের আলোচনায় বলা হয়, নিরিবিলি পরিবেশে মানুষের চিন্তা পরিষ্কার হয়, আত্মসমালোচনার সুযোগ তৈরি হয় এবং অন্তরের গভীর অনুভূতি জাগ্রত হয়। ইসলামে এতেকাফ সেই সুযোগই তৈরি করে।যখন একজন মানুষ মসজিদের নির্জন পরিবেশে বসে কোরআন তিলাওয়াত করে, আল্লাহর কাছে দোয়া করে এবং নিজের জীবন নিয়ে চিন্তা করে, তখন তার অন্তরে নতুন এক প্রশান্তি জন্ম নেয়। অনেক সময় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও এই নীরব মুহূর্তগুলোতেই স্পষ্ট হয়ে যায়।



সব মানুষের পক্ষে পুরো দশ দিন এতেকাফ করা সম্ভব হয় না। কারও কাজ আছে, কারও পারিবারিক দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু ইসলামের সৌন্দর্য এখানেই যে এখানে সামর্থ্য অনুযায়ী আমলের সুযোগ রাখা হয়েছে।কেউ যদি দশ দিন এতেকাফ করতে পারে, তা অবশ্যই উত্তম। কেউ যদি পাঁচ দিন বা তিন দিন সময় বের করতে পারে, সেটাও ভালো। আর যাদের পক্ষে দিনের সময় থাকা সম্ভব নয়, তারা অন্তত রাতের কিছু সময় মসজিদে থেকে নফল এতেকাফের নিয়তে ইবাদত করতে পারে।এতেকাফের ধরনও ভিন্ন ভিন্ন—ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল। যে ব্যক্তি যেটাতে সক্ষম, সে যদি আন্তরিকভাবে সেই অনুযায়ী নিয়ত করে, তাতেও অনেক সওয়াব ও কল্যাণ রয়েছে।



রমজানের শেষ দশক আমাদের সামনে এক বিশেষ সুযোগ নিয়ে আসে। এই কয়েকটি রাত হয়তো পুরো বছরের সবচেয়ে মূল্যবান সময়। যদি আমরা এই সময়টাকে একটু আলাদা করে দেখি, কিছুটা নির্জনে বসি, কোরআনের সাথে সম্পর্ক বাড়াই এবং আল্লাহর কাছে মন খুলে দোয়া করি তাহলে এই সময়ই আমাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।


হতে পারে এই রাতগুলোর কোনো একটিতে আল্লাহ আমাদেরকে লাইলাতুল কদরের সৌভাগ্য দান করবেন। তাই যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, সে ততটুকু চেষ্টা করুক। কয়েকটি রাত হলেও মসজিদে কাটানো, এতেকাফের নিয়ত করা এবং আল্লাহর সান্নিধ্যে নিজেকে সোপর্দ করা এই প্রচেষ্টাই হয়তো আমাদের রমজানকে সত্যিকার অর্থে সার্থক করে তুলবে। আল্লাহ পাক আমাদের তৌফিক দান করুন আমিন


 লেখকঃ মুফতি জালাল উদ্দিন জামালি 

কমেন্ট বক্স
সুন্দরবন ঘেঁষে ২৪ রিসোর্ট ৩০ দিনের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ

সুন্দরবন ঘেঁষে ২৪ রিসোর্ট ৩০ দিনের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ